• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
উৎসব এলেই বাড়ে ভোগান্তি: বেপরোয়া যানবাহনে বিপর্যস্ত বরিশালের বিনোদনকেন্দ্র ভর্তি পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়ে ববির ৪ স্টাফকে মারধর, পরীক্ষার্থীকে পুলিশে আটক।  পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চালককে কুপিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদ, বরিশালের বিনম্র শ্রদ্ধা ‎মোংলা বন্দরে চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে রেকর্ড পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। বাসে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ছয়জন গ্রেফতার থানা   চাঁদপুরের ইব্রাহিমপুর চরে থামছে না মাটিখেকো ভেকুর তাণ্ডব ঝালকাঠিতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২ বিএনপি কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে নিহত-১, আহত ১০

বরিশালে নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন

প্রতিনিধি / ১১২ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল, কবাই ও ফরিদপুর এই তিন ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে কারখানা নদী। এই কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হাজার হাজার বসতি বাড়িসহ তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার একর ফসলি জমি নদী গর্বে বিলীন।

এছাড়াও নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজন্ট কলেজ ও শিয়ালঘুনী ৭০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখ যায়, কারখানা নদীর দুই পারে গড়ে ওঠা দুধল, কবাই ও ফরিদপুর ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম ভাঙনের মুখে। হুমকির মুখে আছে নতুন করে গড়ে উঠা কবাই বাজার, ৪ নং দুধল ইউনিয়ন শতরাজ বাজার। যে কোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কারখানা নদীর ভাঙনে ফরিদপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ফরিদপুর গ্রাম ও চর রাঘুনদ্দি গ্রাম ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে। ১২৮ নং চর রাঘুনদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে।

পশ্চিমা ফরিদপুর গ্রামের ভেরি বাঁধ বিভিন্ন স্থান থেকে ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রতিবছর ভাঙ্গন স্থানে ভেরি বাঁধ নতুন করে নির্মাণ করা হলেও বর্ষ মৌসুমে তা নদীতে হারিয়ে যায়। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরবর্তী শত শত পরিবারের।

কবাই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা বারেক খান জানান, গত বর্ষা মৌসুমে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়। এখন শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কমতে শুরু করায় তীব্র স্রোতে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

দুটি গ্রামের দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ও দুই শত একর ফসলি জমি নদীতে গেছে। এতে এই এলাকার অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বাজারে, নদীর পাড়ে, রাস্তার পাশে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। শিয়ালঘুনী বাজারে রয়েছে অন্তত দেড়শ’ দোকানপাট যা নতুন করে আবারও ভাঙনের কবলে।

ফরিদপুর গ্রামের শাহজাহান মল্লিক জানান, কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে সড়ক বসত বাড়িসহ ফসলি জমি। সরকারি ভাবে ভাঙ্গন রোধে নেই কোনো কার্যকরী ব্যাবস্থা।

অনেক পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে পথে বসেছেন। প্রতিবছর বেরিবাঁধ ভেঙে বর্ষা মৌসুমে লোকালয়ে পানি চলে আসে। কৃষি কাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে না। অব্যাহত ভাঙন রোধ করা না হলে খুব কম সময়ে পশ্চিম ফরিদপুর গ্রাম নদীতে চলে যাবে।

কবাই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল তালুকদার জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষের বাড়ি ঘর অনেক আগেই নদীতে হারিয়েছি। বাড়ির সামনে পারিবারিক গোরস্থান ছিল তাও নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।

ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস, এম, শফিকুর রহমান জানান, ভাঙন রোধে বড় ধরনের বরাদ্দ দরকার। না হলে আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে আমাদের ইউনিয়নটি নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পায়।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিন অলীদ জানান, কারখানা নদী ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/