নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীর বান্দ রোডে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চত্বরের পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে ১৯৭১ সালের স্মৃতিবিজড়িত পাকিস্তানি সেনাদের টর্চার সেল ও আটটি বাংকার।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজ শেষে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবসে এর উদ্বোধন করা হয়। ৩ একর ৫০ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত টর্চার সেল ও বাংকারগুলো ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
টর্চার সেল ও বাংকারে প্রবেশের জন্য ওয়াপদা কলোনি এবং ৩০ গোডাউন এলাকায় দুটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। তবে সম্প্রতি ওয়াপদা কলোনি এলাকার ফটকে তালা ঝুলিয়ে সেটি বন্ধ করে দিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। এতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিরস্ত্র বাঙালি নারী-পুরুষের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে আসা দর্শনার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
টর্চার সেল এলাকায় কর্মরত বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মীরা জানান, সম্প্রতি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বদলি হওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো টর্চার সেলের দুটি ভবন ও বাংকার এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি। টর্চার সেলে যাতায়াতের জন্য সিটি করপোরেশনের কোনো সড়ক বা জমি নেই। এ ছাড়া স্মৃতিচিহ্নগুলোর পাশে পাউবোর কর্মীদের কলোনি রয়েছে। তাই এই পথ দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারবে না।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করলে গত বুধবার ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে এই প্রবেশপথটি শুধু সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সাধারণ দর্শনার্থীরা এই পথে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘হঠাৎ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক টর্চার সেল ও বাংকার এলাকার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রবেশপথটি শুধু সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। সাধারণ দর্শনার্থীরা এই গেট ব্যবহার করতে পারবেন না।’
এদিকে সম্প্রতি গেটের তালা খুলে নেওয়া হলেও ১৬ ডিসেম্বরের পর পুনরায় গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল আলম বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মমতার ভয়াবহতার সঙ্গে পরিচিত করাতে শত্রুদের ব্যবহৃত বাংকার ও টর্চার সেল সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য দুই প্রান্তে দুটি গেট রাখা হয়েছে। ওয়াপদা কলোনি প্রান্তটি নগরবাসীর কাছে সুপরিচিত এবং যাতায়াতের জন্য সুবিধাজনক। এটি বন্ধ করার অর্থ বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে বাধা দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩০ গোডাউন প্রান্তে সড়ক নির্মাণ এখনো সম্পন্ন হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন ওয়াপদা কলোনি প্রান্তের গেটটি বন্ধ না করে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি ছিল। ৩০ গোডাউন এলাকার সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হলে এই পথটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কলোনি এলাকায় মাদকাসক্তদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণে অভ্যন্তরীণ গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিশেষ দিনে গেটটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।’
https://slotbet.online/