নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদী। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সুন্দরবনসংলগ্ন বরগুনা জেলায় রয়েছে অসংখ্য জেলে সম্প্রদায়। ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙনসহ নানা দুর্যোগে এখানকার মানুষ অসহায়। সমুদ্র এবং উপকূল রক্ষায় বরগুনা-২ আসন থেকে নূরুল ইসলাম মনিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জনগণ।
সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের জেলা সভাপতি এবং একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এ অঞ্চলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই নূরুল ইসলাম মনি বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব পাবেন এমনটাই আশা পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের। অবহেলিত উপকূলীয় জনপদে মন্ত্রী পায়নি জনতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নূরুল ইসলাম মনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ডা. সুলতান আহমদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৮৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৪ জন।
জানা যায়, বরগুনা-২ আসনটি বিষখালী ও বলেশ্বর নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ। এ কারণে এখানে নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে এ এলাকার মানুষের কাছে বিবেচিত। তাই নির্বাচনি ইশতেহারে নূরুল ইসলাম মনি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদের আধুনিকায়ন, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উপকূল রক্ষা বাঁধ শক্তিশালীকরণ, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের বন্দরনগরী হিসেবে এলাকাকে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। পাথরঘাটা পৌর শহরের বাসিন্দা কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চারবারের এমপি হিসেবে নুরুল ইসলাম মনি এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন। তার প্রতিদান এ অঞ্চলের মানুষ তাকে দিয়েছে। এবার আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে চাই মনিকে মন্ত্রী বানানো হোক। তাহলে বরগুনা-২ আসনের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, নদীর ভাঙছে, বসতঘর জমিজমা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাই। আমাগো এলাকার এমপি যদি মন্ত্রী হন তাহলে নদী ভাঙা আর ভূমিহীনদের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা আশা করছি নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের ছেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা জেলে, সাগরে মাছ শিকার করে পেট চালাই। সাগরে নিরাপত্তা নাই, ছেলেদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা মনি ভাইয়ের কাছে চাই।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, নূরুল ইসলাম মনি সাহেব মন্ত্রিত্ব পাবেন এটা আমাদের প্রাণের দাবি। নুরুল ইসলাম মনি একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। আমরা আশা করি, তারেক রহমান আমাদের বিমুখ করবেন না।
পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, শুধু পদ নয়—নূরুল ইসলাম মনির দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় এ জনপদের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জীবন-জীবিকা ও জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, একটি ভবন যেমন চারটা খুঁটির ওপর ভর করে থাকে তেমন একটি রাষ্ট্র কয়েকটি স্তম্ভের ওপর থাকে।
ওই ভবনের একটি খুঁটি যদি না থাকে তাহলে ভবন যেমন নড়বড়ে হয়ে যায় তেমনি বাংলাদেশের ১৯টি জেলা নিয়ে উপকূল অঞ্চল তা-ও নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে উপকূল অঞ্চল যদি অনিরাপদ বা হুমকিতে থাকে তাহলে গোটা দেশও হুমকিতে এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। তাই উপকূল রক্ষার্থে জন্য টেকসই বাঁধ, বনায়নসহ জেলেদের টেকসই অধিকার নিশ্চিতের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অনেক জেলে পরিবার অসহায় রয়েছে, অসংখ্য জেলে নিখোঁজ থাকায় তাদের স্ত্রীরা পারছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা, সন্তান লিখতে পারছেন বাবার নামে সাথে মৃত্যু অথবা নিখোঁজ, স্ত্রীরা লিখতে পারছেন না স্বামী নিখোঁজ বা মৃত্যু। এমনকি ওয়ারিশ সনদ সনদসহ প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে আমাদের গবেষণা আছে। বিগত সরকারের কাছে আমরা সুপারিশমালাও পাঠিয়েছিলাম। সব সবমিলিয়ে উপকূলের জেলেদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করতে আমাদের মন্ত্রী দরকার।
চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চান। দল ও সরকারের নীতির আলোকে বরগুনা-২ আসনকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তিনি কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
নূরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয় লাভ করেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।
https://slotbet.online/